কোনো খরচ ছাড়াই ঘরে বসে ইনকাম ট্যাক্স সার্টিফিকেট তৈরি করবেন যেভাবে
বাংলাদেশে অনেকেই ইনকাম ট্যাক্স সার্টিফিকেট (TIN সার্টিফিকেট) করতে দেরি করেন শুধু ভয় বা জটিলতা মনে হওয়ায়।
কিন্তু বাস্তবতা হলো TIN সার্টিফিকেট করা ঘরে বসেই এত সহজ যে, ওয়াইফাই থাকলেই আপনার কাজ শেষ! এই কাজে আপনার কোনো দালাল লাগবে না। কোনো ফরমের ঝামেলা নেই। কোনো ঘুশের গল্পও বলতে হবে না।
ইনকাম ট্যাক্স সার্টিফিকেট কী?
ইনকাম ট্যাক্স সার্টিফিকেট বা TIN (Tax Identification Number) হলো সরকারের দেওয়া আপনার ট্যাক্স আইডেন্টিটি। অনেক জায়গায় এই জিনিস এখন বাধ্যতামূলকভাবে লাগে। যেমন:
- বিদেশে চাকরির ফাইল ওপেন করতে
- ভিসার জন্য
- ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে
- গাড়ি/ফ্ল্যাট কিনতে
- ব্যবসার কাজে
- পাসপোর্ট রিনিউ করতে
মোট কথা আধুনিক বাংলাদেশে TIN ছাড়া আপনি হাফ সিস্টেম মিস করবেন।
ঘরে বসে TIN সার্টিফিকেট করবেন যেভাবে
১️. e-TIN রেজিস্ট্রেশন ওয়েবসাইটে যান। ওয়েবসাইটের লিংক হলো https://secure.incometax.gov.bd। অথবা গুগলে eTIN Bangladesh লিখলেও চলে। কিন্তু ফেইক সাইটে ঢুকে না যাওয়ার দিকে খেয়াল রাখবেন।
২. এরপর 'Registration' এ ক্লিক করবেন। এখানে তিনটি অপশন আসবে:
- Individual (ব্যক্তিগত)
- Company
- Partnership Firm
আপনি ব্যক্তিগত TIN করতে চাইলে Individual সিলেক্ট করবেন।
৩️. এরপর মোবাইল নম্বর ও NID দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলবেন। যদিও এখানেই ৮০% মানুষ ভয় পায়। কিন্তু সত্যিটা হলো এই অপশনে আপনার শুধু তিনটি তথ্য লাগবে। এগুলি হলো:
- NID নম্বর
- জন্মতারিখ
- মোবাইল নম্বর
- ওটিপি (OTP) যেটা আসবে মোবাইলে
৪️. এরপর আপনাকে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হবে। এখানে যে তথ্যগুলো দিতে হবে সেগুলি হলো:
- নাম (NID অনুযায়ী)
- পিতার/মাতার নাম
- ঠিকানা
- পেশা
- আয়ের উৎস
মনে রাখবেন যদি আপনার কোনো আয় না থাকে, তবুও TIN করতে পারবেন। কারণ বাংলাদেশে Zero Income Holder হিসেবেও TIN করা যায়।
৫️. এরপর Circle এবং Zone সিলেক্ট করুন। অনেকে এর নাম শুনে ভয় পায়। কিন্তু চিন্তা নাই! ওয়েবসাইট নিজেই আপনার এলাকার সার্কেল সাজেস্ট করে দেবে।
৬️. সবশেষে তথ্য চেক করে Submit করে দিন। এবার যে ডাউনলোড অপশনটি আসবে, এটাই আপনার ইনকাম ট্যাক্স সার্টিফিকেট বা e-TIN Certificate। যা PDF আকারে ডাউনলোড করে রাখতে পারবেন।
ইনকাম ট্যাক্স সার্টিফিকেট পেতে কত সময় লাগে?
মূলত অনলাইনে ইনকাম ট্যাক্স সার্টিফিকেট পেতে ৫ থেকে ৭ মিনিটের মতো সময় লাগে। যদি আপনার নেট স্লো হয় তাহলে ১০ মিনিট লাগতে পারে। তবে এর বেশি নয়।
ঘরে বসে TIN সার্টিফিকেট করতে কত খরচ?
ঘরে বসে TIN সার্টিফিকেট করতে লাগে ০ টাকা। হ্যাঁ! সরকারের এই সার্ভিস পুরোপুরি ফ্রি। যদিও দালালরা আপনাকে ৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা চার্জ করতে পারে!
ইনকাম ট্যাক্স সার্টিফিকেটের নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা
মনে রাখবেন, TIN সার্টিফিকেট করলেই ট্যাক্স দিতে হবে এটা ভুল ধারণা। যদি আপনার আয় ট্যাক্স–যোগ্য না হয় তাহলে আপনি Zero Tax Return জমা দিয়ে খুব সহজে ক্লিয়ার থাকতে পারবেন। যারা বিদেশে যেতে চান বা চাকরি করতে চান তাদের জন্য আবার এটা খুবই জরুরি।
কেন ঘরে বসে TIN সার্টিফিকেট করবেন?
- রিজার্ভেশনের ঝামেলা নেই
- ফ্রি সার্ভিস
- সরকারের ডিজিটাল সিস্টেম
- ভিসা প্রসেসে কাজে লাগে
- ব্যাংকিং কাজে লাগে
- ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হলে দ্রুত ডকুমেন্ট দেখাতে পারবেন
ইতি কথা
সবশেষে বলবো ইনকাম ট্যাক্স সার্টিফিকেট করার আগে জাতীয় পরিচয়পত্রে (NID) যদি বানান ভুল থাকে আগে ঠিক করে নিবেন। মনে রাখবেন একই ব্যক্তির দুইটি TIN থাকলে জরিমানা হতে পারে। তাছাড়া আবেদনের সময় তথ্য ভুল দিলে পরে সংশোধনে ঝামেলা হয়। আর হ্যাঁ…পাসপোর্টের তথ্য ও NID তথ্য মিললে ভিসা প্রক্রিয়ায় সুবিধা হয়।
মনে রাখবেন, ঘরে বসে ইনকাম ট্যাক্স সার্টিফিকেট তৈরি করা আজকের দিনে ভিজিটিং কার্ড বানানোর মতোই সহজ। তাই বলবো ভয় বা দালালের উপর নির্ভরতার সময় শেষ। এখন যেকোনো মানুষ, যেকোনো জায়গা থেকে নিজেই নিজের TIN করতে পারবে। সুতরাং অযথা দালালের পেছনে বাড়তি খরচ ব্যয় করা থেকে বিরত থাকুন!
লেখা: সুলতানা আফিয়া তাসনিম
