ads

০ থেকে শুরু করে রিমোট জবের বেতন কত হতে পারে: জানুন বিস্তারিত 

বাড়িতে বসে কাজ করে কি সত্যিই ভালো টাকা আয় করা যায়?

online-remote-job-income-guide-bangla.jpg

এই প্রশ্নটা এখন প্রায় সবার মাথায় আসে। কারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা প্রায়ই দেখি….“আমি ঘরে বসে মাসে লাখ টাকা আয় করি!” কিন্তু বাস্তবতা হলো

রিমোট জব থেকে আয় করা সম্ভব। কিন্তু সেটা একদিনে না। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। চলুন পুরো বিষয়টা সহজভাবে, বাস্তবভাবে বুঝি। আর জানার চেষ্টা করি রিমোট জবের বেতন কত হতে পারে! 

রিমোট জব আসলে কী?

রিমোট জব মানে শুধু অনলাইনে কাজ না। এর আসল অর্থ হলো আপনি অফিসে না গিয়ে, ইন্টারনেট ব্যবহার করে যেকোনো জায়গা থেকে কাজ করছেন। আপনি বাংলাদেশে বসে কাজ করছেন, কিন্তু আপনার ক্লায়েন্ট হতে পারে আমেরিকার, ইউরোপের বা মধ্যপ্রাচ্যের। আর হ্যাঁ! এই কারণেই রিমোট জবের বেতন অনেক সময় বেশি হয়। কারণ আপনি লোকাল না, গ্লোবাল মার্কেটে কাজ করছেন।

রিমোট জবের বেতন আসলে কত?

এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপনাকে বুঝতে হবে। রিমোট জবের বেতন কখনোই ফিক্সড না। এটা নির্ভর করে ৩টা জিনিসের ওপর:

✅আপনার স্কিল

✅আপনার অভিজ্ঞতা

✅আপনি কাদের সাথে কাজ করছেন

ধরুন দুইজন মানুষ একই কাজ করছে একজন নতুন, আরেকজন ২ বছরের অভিজ্ঞ। তাদের ইনকাম কিন্তু কখনোই এক হবে না।

নতুনদের রিমোট জবের বেতন

যদি আপনি একদম নতুন হন, তাহলে শুরুতে আপনার ইনকাম কম হবে এটাই স্বাভাবিক। প্রথম দিকে আপনি মাসে প্রায় ১০,০০০ – ৫০,০০০ টাকা আয় করতে পারেন কেন কম? কারণ আপনার অভিজ্ঞতা কম, ক্লায়েন্ট আপনাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করে না আর আপনি এখনও শিখছেন। কিন্তু বিষয়টা এতোটা খারাপও না। এটা হচ্ছে foundation stage।

মিডিয়াম লেভেলের রিমোট জবের বেতন

যখন আপনি ৩/৬ মাস কাজ করবেন, তখন আপনার কাজের ধরণ মানে সবকিছু বদলাতে শুরু করবে। আপনি বুঝতে পারেন কীভাবে ক্লায়েন্ট হ্যান্ডেল করতে হয়, কীভাবে কাজ দ্রুত করতে হয়, কীভাবে ভালো প্রোফাইল বানাতে হয়! আর এই সময় আপনার ইনকাম হতে পারে ৫০,০০০ থেকে ১,৫০,০০০ টাকা মাসে! কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এখানেই বেশিরভাগ মানুষ থেমে যায়… যদিও আসল গ্রোথ এখান থেকে শুরু।

প্রফেশনাল লেভেলের রিমোট জবের বেতন

যদি আপনি সিরিয়াস হন এবং ১/২ বছর ধরে কাজ করেন, তখন আপনি আর ফ্রিল্যান্সার না বরং আপনি হয়ে যাবেন একজন স্কিলড প্রফেশনাল। তখন আপনার ইনকাম হতে পারে ১.৫ লাখ – ৫ লাখ+ টাকা মাসে। অনেকে এর থেকেও বেশি আয় করে। কারণ তখন ক্লায়েন্টই আপনাকে খুঁজে নেবে, আপনি কম কাজ করে বেশি টাকা নিতে পারবেন আর আপনার কাজের ভ্যালুও বাড়বে। 

কেন বিদেশি ক্লায়েন্টে রিমোট জবের বেতন বেশি?

এটা একটা বড় ফ্যাক্ট। ধরুন একই কাজ বাংলাদেশে করলে ১০,০০০ টাকা। কিন্তু বিদেশি ক্লায়েন্টের করলে ৫০,০০০+ টাকা। কেন? কারণ বিদেশে সেই কাজের দাম বেশি। আর রিমোট জবের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আপনি সেই মার্কেটে ইজিলি ঢুকতে পারবেন। 

রিমোট জবে কত দিনে আয় শুরু হয়?

অনেকেই জানতে চায়, “আমি আজ শুরু করলে কবে আয় করবো?” বাস্তব উত্তর হলো ১ম মাস মানে শেখা, ২য় মাস মানে প্র্যাকটিস আর ৩য় মাস মানে ছোট ইনকাম। কিন্তু যদি আপনি নিয়মিত এই সেক্টরে না থাকেন, মাঝপথে ছেড়ে দেন তাহলে দিনশেষে কিছুই হবে না।

আসলে অনেকে ভাবে রিমোট জব মানেই অনলাইনে বসে টাকা আসবে! কিন্তু সত্যটা হলো এটা একটা স্কিল-ভিত্তিক ক্যারিয়ার। এখানে আপনি যত ভালো হবেন আপনার ইনকাম তত বাড়বে! প্রসেসটা ঠিক একজন ডাক্তারের মতো! মানে একজন নতুন ডাক্তার কম আয় করে। কিন্তু অভিজ্ঞ ডাক্তার বেশি আয় করে! 

ইতি কথা

সবশেষে কিছু ভুল ধারণা ক্লিয়ার করি। আসলে যারা ১ সপ্তাহে ইনকাম, স্কিল ছাড়া কাজ, কপি-পেস্ট করে টাকা এই ধরণেরও থিওরি নিয়ে আছেন তারা বড় অভাগা! রিমোট জব আপনাকে ২টা জিনিস দেবে। একটা হচ্ছে স্বাধীনতা আরেকটা হচ্ছে সম্ভাবনা। কিন্তু এর বদলে চাইবে ধৈর্য, পরিশ্রম আর ধারাবাহিকতা! সো কিপ গোয়িং! 

✍️ সুলতানা আফিয়া তাসনিম

Previous Post Next Post

{ads}