ads

আপনার মোবাইলের অ্যালগরিদম কি আপনার মুড কন্ট্রোল করে?

আচ্ছা বলুন তো! আপনি কি সত্যিই নিজের ইচ্ছায় ভিডিও দেখেন… নাকি আপনার মোবাইলের অ্যালগরিদম আগেই ঠিক করে রেখেছে আপনি পরের ১ ঘণ্টা কী দেখবেন? 😳

mobile-algorithm-mood-control-bangla.jpg

আজকের পৃথিবীতে মানুষ ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথমে কী দেখে? অনেকের উত্তর হবে ফোন। আর ঘুমানোর আগে শেষ কী দেখে?  উত্তর একই ফোন! কিন্তু এখানেই লুকিয়ে আছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আপনার মোবাইলের অ্যালগরিদম কি শুধু কনটেন্ট দেখায়, নাকি ধীরে ধীরে আপনার মুড, চিন্তা, অনুভূতি এবং সময়কেও নিয়ন্ত্রণ করে?

শুনতে একটু বাড়াবাড়ি লাগলেও বাস্তবতা হলো আজকের মোবাইলের অ্যালগরিদম, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যালগরিদম, এবং এআই রিকমেন্ডেশন সিস্টেম মানুষের আচরণের উপর আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে। এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত জানবো মোবাইলের অ্যালগরিদম কী, কীভাবে মোবাইলের অ্যালগরিদম কাজ করে, কীভাবে মোবাইলের অ্যালগরিদম আপনার মুড পরিবর্তন করে, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যালগরিদম কেন এত addictive এবং কীভাবে অ্যালগরিদম ট্র্যাপ থেকে নিজেকে বাঁচাবেন! 

মোবাইলের অ্যালগরিদম আসলে কী?

সহজভাবে বললে, মোবাইলের অ্যালগরিদম হলো এমন একটি ডিজিটাল সিস্টেম, যেটা আপনার পছন্দ-অপছন্দ বুঝে আপনাকে কনটেন্ট দেখায়। মানে সোজা কথায় আপনি কোন ভিডিও দেখেন, কতক্ষণ দেখেন, কোথায় pause করেন, কোন পোস্টে react দেন, কী search করেন, কোন ভিডিও skip করেন, সবকিছু analyse করা হয়।

তারপর মোবাইলের অ্যালগরিদম সিদ্ধান্ত নেয় এই মানুষটাকে পরেরবার কী দেখালে সে আরও বেশি সময় ফোনে থাকবে! সহজভাবে মোবাইলের অ্যালগরিদম অনেক সময় আপনার best friend এর থেকেও আপনাকে বেশি চিনে ফেলে! 

মোবাইলের অ্যালগরিদম কেন এত স্ট্রং?

বর্তমানে বড় বড় social media platform যেমন Facebook, Instagram, TikTok বা YouTube সব জায়গাতেই স্ট্রং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হয়। রিসার্চ বলছে একজন মানুষ গড়ে প্রতিদিন ৪ থেকে ৭ ঘণ্টা মোবাইল ব্যবহার করে। TikTok ব্যবহারকারীরা average প্রায় ৯০ মিনিটের বেশি সময় app-এ থাকে। আর YouTube recommendation system প্রতিদিন কোটি কোটি ভিডিও suggest করে। 

এসবের কারণ একটাই এবং সেটা হলো মোবাইলের অ্যালগরিদমের মূল কাজ আপনার attention ধরে রাখা। কারণ আপনি যত বেশি সময় app-এ থাকবেন company তত বেশি ad দেখাবে! আর তত বেশি income হবে! 

মোবাইলের অ্যালগরিদম কীভাবে আপনার মুড বুঝে?

এটাই সবচেয়ে ভয়ংকর এবং interesting অংশ। আপনি হয়তো কাউকে কিছু বলেননি। কিন্তু মোবাইলের অ্যালগরিদম আপনার behaviour দেখে অনেক কিছু বুঝে ফেলবে। ধরুন আপনি emotional ভিডিও দেখছেন, sad song শুনছেন বা breakup quote পড়ছেন তখন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যালগরিদম ধরে নেয় এই user emotional content পছন্দ করছে। ফলে timeline-এ আরও emotional content আসতে থাকে। এরপর কী হয়? আপনার mood আরও সেই direction-এ যেতে থাকে। 

মোবাইলের অ্যালগরিদমের সবচেয়ে বড় ট্রিক

আপনি কি কখনো ভেবেছেন যখন মনে হয় আর মাত্র ৫ মিনিট ফোন ব্যবহার করবো তখনই দেখা যায় ১ ঘণ্টা চলে গেছে? এটা accident না। এটা মোবাইলের অ্যালগরিদম এবং app design-এর অংশ। Social media platform-গুলো infinite scroll ব্যবহার করে। মানে content কখনো শেষ হয় না! সো আপনি scroll করতেই থাকবেন। কারণ মানুষের brain নতুন জিনিস দেখতে ভালোবাসে। প্রতিবার নতুন ভিডিও বা পোস্ট দেখলে brain dopamine release করে।

আর এটাকেই বলে dopamine scrolling! 

কেন নেগেটিভ কন্টেন্ট বেশি ভাইরাল হয়?

মোবাইলের অ্যালগরিদম খুব দ্রুত বুঝে গেছে যে মানুষ emotional content-এ বেশি react করে। তাই drama, controversy, ভয়, রাগ বা toxic content এসব বেশি ভাইরাল হয়। কারণ negative content সাধারণত বেশি attention আনে। গবেষণা অনুযায়ী মানুষ positive content-এর চেয়ে negative content এ বেশি সময় দেয়। ফলে মোবাইলের অ্যালগরিদম আরও বেশি negative content দেখাতে শুরু করে।

সোশ্যাল মিডিয়া অ্যালগরিদম কি রিয়েলিটি বদলে দেয়?

অনেক ক্ষেত্রে হ্যাঁ। কারণ দুইজন মানুষের feed কখনো same না। আপনি যদি motivational ভিডিও দেখেন ভবিষ্যতে আরও motivational content পাবেন। আপনি যদি conspiracy content দেখেন পরে আরও conspiracy পাবেন। আর আপনি যদি toxic relationship video দেখেন আপনার timeline ভরে যাবে সেই এসব content এ। মানে মোবাইলের অ্যালগরিদম আপনার জন্য আলাদা ডিজিটাল দুনিয়া তৈরি করবে। 

মোবাইলের অ্যালগরিদম এবং মানসিক স্বাস্থ্য

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে কথা বলবো! অতিরিক্ত social media usage-এর সাথে anxiety, stress, loneliness বা depression symptoms এসবের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। কারণ ননস্টপ স্ক্রলিং ব্রেইনের এর উপর চাপ তৈরি করে। 

এআই অ্যালগরিদম কি মানুষকে ম্যানিপুলেট করতে পারে?

পুরোপুরি mind control করে না! কিন্তু influence করতে পারে কারণ এআই অ্যালগরিদম continuously শিখছে কী দেখালে আপনি বেশি react করবেন। এবং problem হলো যে content emotion trigger করে, সেটাই সাধারণত বেশি engagement আনে।

মোবাইলের অ্যালগরিদমের কিছু ক্ষতিকর প্রভাব

মোবাইলের অ্যালগরিদম দীর্ঘ সময় ধরে concentration কমাতে পারে, আপনার productivity নষ্ট করতে পারে, mood swing বাড়াতে পারে পাশাপাশি আপনার ঘুম নষ্ট করতে পারে! 

কীভাবে মোবাইলের অ্যালগরিদম থেকে নিজেকে বাঁচাবেন?

জিনিসটা করতে পুরো social media ছাড়ার দরকার নেই। কিন্তু smart ব্যবহার জরুরি। শুরুতে Feed clean করুন আর Toxic page unfollow করুন। Screen time limit ব্যবহার করুন! মনে রাখবেন আপনি নিজেকে control না করলে algorithm আপনাকে control করবে! সম্ভব হলে Educational content বেশি দেখুন! তাহলে মোবাইলের অ্যালগরিদম ধীরে ধীরে better content দেখাবে।

ইতি কথা

মোবাইলের অ্যালগরিদম সরাসরি আপনার mind control না করলেও আপনার mood, attention এবং behaviour-এর উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মোবাইলের অ্যালগরিদমের লক্ষ্য আপনার happiness না! বরং আপনার attention। তাই মনে রাখবেন আপনি ভাবছেন আপনি ফোন চালাচ্ছেন! কিন্তু অনেক সময় রিয়েলিটি হচ্ছে মোবাইলের অ্যালগরিদমই আপনাকে চালাচ্ছে! তাই সাবধান হোন! নিজেকে প্রোডাক্ট বানানো বন্ধ করুন! 

✍️সুলতানা আফিয়া তাসনিম

Previous Post Next Post

{ads}