কিভাবে শুরু করবেন মুভি এক্সপ্লেইন ইউটিউব চ্যানেল [পর্ব: ০১]
মুভি দেখতে ভালো লাগে? গল্প বলতে ভালো লাগে? তাহলে তো আপনার জন্মই হয়েছে মুভি এক্সপ্লেইন ইউটিউব চ্যানেল নিয়ে কাজ করার জন্য [না, মানে একটু মজা করলাম আরকি]
ভাবছেন, একটা মুভি দেখব, গল্পটা বলব, ইউটিউবে আপলোড করব, তারপর ভিউ আর টাকা আসবে? আহা, যদি ব্যাপারটা এতই সহজ হতো!
বাস্তবে একটা ভালো মুভি এক্সপ্লেইন ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে শুধু মুভি দেখলেই হয় না। মুভি সিলেক্ট করতে হয়, রিসার্চ করতে হয়, স্ক্রিপ্ট লিখতে হয়, ভয়েস দিতে হয়, ভিডিও এডিট করতে হয়, থাম্বনেইল বানাতে হয়, টাইটেল ঠিক করতে হয়, এসইও বুঝতে হয় এবং কপিরাইট নিয়েও সচেতন থাকতে হয়।
তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
কারণ এই পুরো জার্নিটা আমরা একসাথে করব। একেবারে জিরো থেকে প্রো পুরো ১০ পর্বের একটি “সিনেমা থেকে স্টোরিটেলার” নামক সিরিজ নিয়ে আসছি আমি এই ওয়েবসাইটে! আমরা মুভি এক্সপ্লেইন ইউটিউব চ্যানেল শুরু করার পুরো বিষয়টাকে ১০টি পর্বে ভাগ করে শিখবো!
মানে আপনি যদি আজকে একদম নতুন হন, ইউটিউব চ্যানেল কীভাবে শুরু করতে হয় সেটাও না জানেন তবুও সমস্যা নেই। কারণ এই সিরিজে আমরা একদম শুরু থেকে ধীরে ধীরে এগোব।
প্রথমে থাকবে চ্যানেল খোলার নিয়ম এবং কোন ধরনের মুভি নিয়ে কাজ করবেন সেটা ঠিক করবো! এরপর আসবে মুভি রিসার্চ, স্ক্রিপ্ট লেখা, ভয়েসওভার, ভিডিও এডিটিং, থাম্বনেইল, টাইটেল, কপিরাইট, ইউটিউব এসইও, ভিউ বাড়ানো এবং শেষে চ্যানেল থেকে আয় ও গ্রো করার বিষয় নিয়ে বিস্তারিত গাইডলাইন দিবো!
তবে এখানে একটু বাস্তব কথা বলা দরকার। ইউটিউব থেকে আয় করা কখনোই আপনার নির্দিষ্ট স্যালারির মতো হবে না। ১ লাখ ভিউ মানেই সবার একই পরিমাণ টাকা এমন কোনো নিয়মও নেই। তাই স্পেসিফিক্যালি চিন্তা করা বাদদিন!
[আমি জানি অনেক চ্যানেল দিয়ে এই বিষয়টা নিয়ে কাজ করছে! অর্থাৎ সেসব চ্যানেলে আপনি গেলে ফুল টিউটোরিয়াল পেয়ে যাবেন তাও আবার ভিডিও কন্টেন্ট ফরমেটে! কিন্তু দিনশেষে সে সব ভিডিওকে আমরা সিরিয়াসলি নিতে পারি না! আমাদের অলসতা, “আরে ধুর, পরে শুরু করব” এমন মন-মানসিকতা বরাবরই আমাদের পিছিয়ে রাখে! তাই আমি ভাবলাম আমি যদি আর্টিকেল আকারে এই বিষয়টা নিয়ে টিউটোরিয়াল পাবলিশ করি তাহলে হয়তো দ্রুত কাজ শুরু করে দেওয়াটা অথবা অনেক বেশি সিরিয়াস হওয়ার ব্যাপারটা সহজ হবে!]
তাহলে এত মানুষ এই কাজ শুরু করছে কেন?
কারণ মুভি এমন একটা বিষয় যেটা মানুষ সবসময় দেখতে এবং জানতে আগ্রহী। কেউ নতুন মুভির গল্প জানতে চায়, কেউ মুভির শেষটা বুঝতে পারে না, আবার কেউ আমার মতো পুরো মুভি দেখার সময় পায় না। আর এখানেই মুভি এক্সপ্লেইন কনটেন্টের দরকার!
আপনি যদি কোনো জটিল গল্পকে সহজ ভাষায়, সুন্দর স্ক্রিপ্টে এবং ইন্টারেস্টিংভাবে বুঝিয়ে বলতে পারেন, তাহলে দর্শকের জন্য আপনার ভিডিওর একটা আলাদা মূল্য তৈরি হবে! তবে হ্যাঁ, শুধু মুভির গল্প বললেই হবে না এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রেজেন্টেশন।
একই মুভি নিয়ে ২০ জন ভিডিও বানাতে পারে। কিন্তু সবাই সমান ভিউ পাবে না। কারণ একজন হয়তো শুধু ঘটনা বলে যাবে মানে কিছুটা “এরপর সে এখানে গেল। তারপর এটা হলো। তারপর সে ওখানে গেল।” এর মতো!
আরেকজন সেই একই গল্প বলবে একটু অন্যভাবে মানে ঠিক এভাবে “লোকটা তখনও জানত না, যাকে সে সাহায্য করছে সেই মানুষটাই কয়েক মিনিট পর তার জীবনের সবচেয়ে বড় সমস্যার কারণ হতে যাচ্ছে।” প্রেজেন্ট করবে!
আর এটাই ভালো স্ক্রিপ্ট এবং ভালো স্টোরিটেলিং-এর পার্থক্য।
প্রথম ভিডিও থেকেই কি ভিউ আসবে?
আসতে। আবার নাও আসতে পারে। আপনার প্রথম ভিডিওতে ১০০০ ভিউ আসতে পারে, আবার ৪২ ভিউও আসতে পারে। আর সেই ৪২ ভিউয়ের মধ্যে ১৭টা যদি আপনি নিজেই দেখে থাকেন তাতেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কারণ প্রথম কয়েকটা ভিডিও আসলে আপনার শেখার সময়।
প্রথম ভিডিওতে স্ক্রিপ্ট কেমন হচ্ছে বুঝবেন। দ্বিতীয় ভিডিওতে ভয়েসের সমস্যা ধরবেন। তৃতীয় ভিডিওতে থাম্বনেইল নিয়ে শিখবেন। পঞ্চম ভিডিওতে বুঝবেন কোন ধরনের মুভি আপনার দর্শক বেশি পছন্দ করছে। দশম ভিডিওতে গিয়ে হয়তো নিজের আগের ভিডিও দেখে বলবেন, এইটা আমি কী বানাইছিলাম এবং সেটাই আপনার গ্রোথের লক্ষণ!
কারণ আপনি তখন আগের চেয়ে অনেক স্কিলড হয়ে গেছেন।
সিনেমা থেকে স্টোরিটেলারের এই ১০টি পর্বে আপনি কী কী শিখবেন?
এই সিরিজে আমরা ধারাবাহিকভাবে এগোব। আমাদের পুরো প্ল্যানটা হচ্ছে:
মানে প্রথম পর্বে যেখানে আপনি একদম নতুন থাকবে, সেখানে শেষ পর্বে গিয়ে আপনি নিজের মুভি এক্সপ্লেইন ইউটিউব চ্যানেল নিয়ে সিরিয়াসভাবে কাজ করার মতো একটা পরিষ্কার ধারণা পাবেন।
আর হ্যাঁ রসদ হিসাবে আপনার কাছে একটা ভালো ফোন থাকলেই প্রাথমিকভাবে অনেক কাজ করা সম্ভব!
সো বস, আপনার যদি মুভি ভালো লাগে, গল্প বলতে ভালো লাগে এবং নিয়মিত কিছু শেখার ইচ্ছা থাকে, তাহলে শুরু করার জন্য এর চেয়ে ভালো সময় খুঁজতে গিয়ে বসে থাকার দরকার নেই। আমিও জানি আপনিও জানেন যে আপনার প্রথম ভিডিওটা খুব একটা নিখুঁত হবে না। আর এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রথম ভিডিও ছাড়া দ্বিতীয় ভিডিওও হবে না। আর দ্বিতীয় ভিডিও ছাড়া আপনি কখনো বুঝবেন না যে আপনার কোন জায়গাটাতে উন্নতি করা দরকার।
তবে আর দেরি না করে আমার এই সিরিজটা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ফলো করুন। পরের কোনো পর্ব মিস করবেন না। কারণ প্রতিটি পর্ব আগেরটার সঙ্গে কানেক্টেড, আর শেষে গিয়ে পুরো মুভি এক্সপ্লেইন ইউটিউব চ্যানেল তৈরির একটা পরিষ্কার রোডম্যাপও আপনার হাতে থাকবে।
✍️ সুলতানা আফিয়া তাসনিম

